কুচুপুটির সংসার: পর্ব -১ (এক্সেপ্টেড ❤️)

ধ্রুব ও নূভ’র প্রেম কাহিনী
কুচুপুটির সংসার: পর্ব -১ (এক্সেপ্টেড ❤️)


কুচুপুটির সংসার: পর্ব - ১


এক্সেপ্টেড ❤️


দিনটা ১৪ই ফেব্রুয়ারি। অদ্ভুত এক দিন। গত রাত ১২টার পর থেকেই এ যুগের ছেলে-মেয়েরা ভালোবাসাবাসিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। আর আমি ঘুম থেকে উঠলাম দুপুর ১টারও পরে। হায় ঘুম! এই ঘুমটা আর আমার অলস শরীরটাই আমার যত নষ্টের কারণ। সময়ের কাজ কখনোই সময়মতো করতে পারিনি।

অফিসের ডেস্কে বসতে হবে ২টার মধ্যে। এর মধ্যে রুম চেঞ্জ, স্নান, খাওয়া সেরে নিতে হবে। আমি আবার ঘুম ভাঙার পর সঙ্গে সঙ্গে বিছানা ছাড়তে পারি না। আধঘণ্টা নোটিফিকেশন চেক করতে করতেই কেটে যায়।

নির্বাচনের চাপের কারণে গত ১৩ দিন তেমন ফেসবুকিং করা হয়নি। বেশ কিছু ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট ঝুলে আছে। সেগুলো যাচাই-বাছাই করে অ্যাকসেপ্ট করতে হবে। বাকিগুলো ঝুলবে আজীবন। আমার প্রোফাইলে ছেলেদের তুলনায় মেয়ে আইডি থেকেই রিকোয়েস্ট বেশি আসে। কেন আসে জানি না! সবাই তো বলে আমার লেখা ভালো লাগে, আমার মতাদর্শ ভালো লাগে, আমার বায়ো-প্রোপিক ভালো লাগে। সব থেকে বেশি শুনেছি— আমার চুল ভালো লাগে।

বেশ কয়েক বছর ধরে ফেসবুকে তেমন কিছুই লিখি না। আগে যে টুকটাক কবিতা লিখতাম, সেই কবিসত্তা মরে গেছে। আর ফিলোসফিক্যাল অ্যাক্টিভিটি যা ছিল, সেটাও ২৪-এর জামাতি ষড়যন্ত্রের পর বাদ দিয়েছি। অগত্যা প্রাণ হারানোর ভয়ে। সেখানে আমার লেখা ভালো লাগার যুক্তি অহেতুক। আর বায়ো-প্রোপিক ভালো লাগতেই পারে। আমার ফটোজেনিক ফেস ছবিতে সুন্দর লাগাটা স্বাভাবিক। চুল ভালো লাগাটাও তেমনই একটা ব্যাপার। যেসব মেয়েরা ফোক বিষয়বস্তু পছন্দ করে, তাদের কাছে বড় চুলের ছেলে পছন্দ।

১৪ দিনের শতাধিক রিকোয়েস্টের মধ্যে দুজনকে নিয়ে নিলাম লিস্টে। হ্যাঁ, আরও একজনকে অ্যাকসেপ্ট করলাম। আইডিটা লকড। প্রোফাইলেও শুধু একটা রুমের ছবি। লকড আইডি, ইনফরমেশন ছাড়া আইডি সাধারণত আমি গ্রহণ করি না। তবুও করলাম। কারণ নামটাই অদ্ভুত— ‘পুটি’। বায়োতে লেখা— ‘মানবতাবাদ, যুক্তিবাদ, অসাম্প্রদায়িক’।

এই কানা মুসলিম সমাজে একজন মানবতাবাদী, অসাম্প্রদায়িক মানুষের পক্ষে ফেসবুকে নিজ নামে পাবলিক আইডি ব্যবহার করা যে কতটা ঝুঁকিপূর্ণ, তা আমার থেকে ভালো কেউ বুঝবে না। সহচিন্তার সহযোদ্ধা মনে করেই অ্যাকসেপ্ট করলাম। মেসেজে লিখে দিলাম— ‘এক্সেপ্টেড ❤️’। যাদের রিকোয়েস্ট আমি অ্যাকসেপ্ট করি, তাদের এই টেক্সটটাই দিই। সবাইকে এই লাভ সিম্বলটা পাঠানো হয় না, পুটিকে কেন পাঠালাম জানি না। হয়তো সহচিন্তার মানুষ ভেবেই আমার নিউরন এই সিম্বল সেন্ড করে দিল।

না না, আর শুয়ে থাকা যাবে না। উঠতে হবে। গত কয়েকটা দিন শরীরের ওপর দিয়ে খুব ধকল গেছে। নির্বাচনের ডিউটি শেষ। আজ অফিস শেষ করে বাসায় ফিরব। আহ, আমার শান্তির রুম, শান্তির বিছানা, শান্তির বালিশ— আমার জন্য অপেক্ষা করছে। বাসায় গেলে শান্তিতে ঘুমানো যাবে। অফিসের চার ফুটের সোফায় ৬ ফুটের শরীরটাকে অন্তত ঠেসেঠুসে ঢোকাতে হবে না।

স্নান-খাওয়া সেরে দ্রুতই ডেস্কে বসলাম। আমি এখানে বলতে গেলে নিউজরুম হেড। কাজটা নিউজরুমপ্রধানের মতোই করি। কিন্তু ডেজিগনেশন সিনিয়র রিপোর্টার হলেও বেতন অন্যান্য অফিসের পিয়নের মতো। তাও মাস পেরিয়ে যায়, লক্ষ্মীর দেখা পাওয়া মুশকিল। পিসি অন করে আইডি লগইন করতেই পুটির টেক্সট— ‘ধন্যবাদ’।

এসব ছোটখাটো টেক্সটের পর আমরা মেসেঞ্জারেই অডিও কলে কথা বললাম। বাহ, মেয়েটা স্বতঃস্ফূর্ত। মনে হলো, মেয়েটা মনখোলা। আর যাই হোক, এটা যে ফেইক আইডি নয়, সেটা অন্তত নিশ্চিত হওয়া গেল।

কয়েক মিনিটের কথাতেই মনে হলো…

About the author

Admin
Donec non enim in turpis pulvinar facilisis. Ut felis. Praesent dapibus, neque id cursus faucibus. Aenean fermentum, eget tincidunt.

0 Comments:

Copyright © 2013 কুচুপুটির সংসার and Blogger Themes.